প্রথম অধ্যায়: অমর আহ্বানকারী
সকালবেলা, একটি সাধারণ ভাড়া বাসায়, দেখতে সাধারণ এক যুবক টেবিলে মাথা রেখে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।
ঘরটার সাজসজ্জাও সাধারণ, কিন্তু দেওয়ালে টাঙানো অনেক অ্যানিমে মেয়েদের পোস্টার। ফিগার বা অন্য কোনো সংগ্রহ নেই—বোঝা যায় এই অ্যানিমে-ভক্তের পকেট খুব ভারি নয়।
এমন সময় ঘুমন্ত যুবক হঠাৎ সোজা হয়ে বসল। প্রথমেই তার মাথায় এল—
"আমি, বাই মু, অন্য পৃথিবীতে চলে এসেছি?"
তারপর সে নিজের হাত দুটো দেখল, তারপর ঘরের সাজসজ্জা দেখল।
চোখে পড়ল দেওয়ালের অ্যানিমে মেয়েদের পোস্টার। সঙ্গে সঙ্গেই তার মুখে এক অদ্ভুত হাসি ফুটল।
"হি হি হি, আমার পছন্দ!"
কিন্তু আবর্জনার পাত্রটার দিকে তাকাতেই হাসি মিলিয়ে গেল!
মনে মনে ভাবল, এই দেহের মূল মালিক কি হঠাৎ মারা গেল?
"আমার এই দেহ! আর পবিত্র নেই!"
তারপর বাই মু দু'হাতে মুখ চাপড়াল। মাথা নেড়ে ভাবল, এসব কথা আর ভাববে না।
সে চেয়ারে বসে এক হাতে চিবুকে ভর দিল।
"আমি অন্য পৃথিবীতে চলে এসেছি, তাহলে সঙ্গে একটা সিস্টেম থাকা উচিত!"
অবশ্য উপন্যাসে তো সেভাবেই লেখা।
ভাবতে ভাবতে হঠাৎ মাথার ভেতর 'টিং' করে এক অত্যাধুনিক সিস্টেমের ইন্টারফেস ভেসে উঠল।
বাই মু চমকে উঠল। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই সামলে নিল।
এটা সিস্টেম। এইমাত্র ভাবছিলাম, এত তাড়াতাড়ি আসতে হলো? মানুষ মেরে ফেলার জোগাড়!
বাই মু সহজ ভঙ্গিতে বলল, "সিস্টেম, নিজের পরিচয় দাও।"
অনেকক্ষণ কেটে গেল, কিন্তু কোনো সাড়া নেই।
"বুদ্ধিহীন সিস্টেম?" বাই মু মনে মনে ভাবল।
সে মন দিয়ে সিস্টেমটা দেখতে লাগল। শুধু ব্যক্তিগত তথ্যের প্যানেল আছে। সেটাতে ক্লিক করল।
একটি ইন্টারফেস খুলে গেল।
————
নাম: বাই মু
জাতি: মানুষ
আহ্বানকারীর স্তর: এক
শক্তি: ১
নায়ক অনুচর: ০/১ (স্তর বাড়লে সংখ্যা বাড়বে)
সেনা অনুচর: ০/১০ (স্তর বাড়লে সংখ্যা বাড়বে)
অভিজ্ঞতা: ০/১০০০
আহ্বানকারীর দক্ষতা: অসুরের আহ্বান (বিভিন্ন প্রতিভাসম্পন্ন জীবকে নিজের নায়ক অনুচর হিসেবে আহ্বান করা), মৃতের পুনরুজ্জীবন (নিজে হত্যা করা বা আহ্বানকৃত সত্ত্বা দ্বারা হত্যা করা জীবকে পুনরুজ্জীবিত করে নিজের সেনা অনুচর বানানো)
————
বাই মু পড়ে মুগ্ধ হয়ে বলল, "ওহ মা! আমি আহ্বানকারী হয়ে গেলাম! নিজে লড়াই না করে, কোনো বিপদের মুখোমুখি না হয়েই অসাধারণ আহ্বানকারী পদ্ধতি!"
কিন্তু উত্তেজনার সঙ্গেই সে মন্তব্য করল, "এই সিস্টেমের শুধু একটা খারাপ দিক—বুদ্ধি নেই। কোনো ব্যাখ্যা নেই।"
তারপর টেবিলে রাখা মোবাইলটা হাতে নিল। এখনও ব্যাটারি আছে।
হাতে নিয়েই বুঝতে পারল, ব্যাপারটা অসাধারণ।
"বাহ! এতো উন্নত প্রযুক্তি!"
বাই মু বেশ খানিকক্ষণ চেষ্টা করে ক্যালেন্ডার খুঁজে পেল। সেখানে লেখা—স্টার সাগর কাল ৭৮৪৫৩, ১৯ জানুয়ারি!
"এটা তো আমার সময়ের উত্তর ইউয়ান ৩০৩০ সালের মতোই!"
তারপর মোবাইলে ভিডিও প্লেয়ার দেখে তার মুখে একটু বাঁকা হাসি ফুটল।
"যাইহোক, বিরক্ত লাগছে। এখানে কেউ নেই, কিছু মজা করা যাক!"
ভাবতে ভাবতেই প্রচণ্ড এক শব্দের ঢেউ এল।
মোবাইল ফোন হঠাৎ বিস্ফোরিত হলো। বাই মু লাফিয়ে উঠল। কিন্তু চিৎকার করার সুযোগ না পেতেই ভাড়া বাসার কাঁচ, আয়না—সব ভেঙে চুরমার হয়ে গেল।
বাই মু সব দেখে হতবাক। জানালার বাইরে তাকাল।
সেটা ছিল তার জীবনে দেখা সবচেয়ে ভয়ংকর দৃশ্য। ঘন কালো কুয়াশা পুরো আকাশ ঢেকে ফেলেছে, সারা পৃথিবীর দিকে এগিয়ে আসছে। মুহূর্তে পুরো পৃথিবী অন্ধকারে ডুবে গেল, হাতের আঙুল দেখা যায় না।
বাই মু কিছু করার আগেই মাটিতে পড়ে অজ্ঞান হয়ে গেল।
...
কত সময় কেটে গেছে জানা নেই। বাই মু ধীরে ধীরে মাটি থেকে উঠল। সে ঘরটার চারপাশে তাকাল।
আশ্চর্য হয়ে বলল, "আমি কি কয়েক দশক ঘুমিয়ে ছিলাম?"
ঘর ধুলোয় ঢাকা। এত ধুলো জমতে বহু বছর লাগে। দেওয়ালের পোস্টার, বইগুলো সব হলদেটে হয়ে গেছে।
মাথা নেড়ে ভাবল, "এটা ঠিক না। যদি সত্যিই এত বছর কেটে যায়, তবে আমি তো না খেয়ে মরে যেতাম।"
বাই মু স্বভাবতই নিজের হাত দুটো দেখতে চাইল। দেখতে চাইল সে কি এত বছর বুড়িয়ে গেছে কি না।
দেখেই চিৎকার করে উঠল।
তার হাত নেই, শরীর নেই। শুধু রক্তিম শক্তির মতো কিছু।
"না! আমার শরীর কেন এমন হলো? আমি তো এখনো বউ করিনি!"
সে লাফালাফি করতে লাগল। একসময় বইয়ের আলমারি পড়ে তার ওপর চাপা পড়ল।
স্বভাবতই আলমারি ঠেলে দিল। দেখল তার শক্তি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। আর কোনো ব্যথাও অনুভব করছে না। কোনো ক্ষতিও হয়নি?
বাই মু শান্ত হল। ঘর থেকে ধারালো কাঠের টুকরো এনে তার শক্তিময় হাতের তালুতে ফুটিয়ে দেখল।
"সত্যিই ব্যথা লাগছে না।"
আরও বড় টুকরো এনে গোটা শরীরে ফুটিয়ে দেখল।
"আমি, বাই মু, অমর হয়ে গেছি!"
তারপর গম্ভীর ভঙ্গিতে ভাঙা আয়নার দিকে তাকিয়ে নিজেকে বলে উঠল, "মানুষের সামর্থ্য সীমিত।"
"মানুষের চেয়ে বড় কোনো সত্ত্বা হতে হবে।"
"আমি আর মানুষ থাকব না! সিস্টেম!"
বাই মু আবার সিস্টেমের ইন্টারফেস খুলল। দেখল তার শক্তি ১ থেকে ৫ হয়েছে।
শক্তির নিচে নতুন একটি বিষয় এসেছে—অস্বাভাবিক ক্ষমতা।
সে বিস্তারিত তথ্য খুলল।
【অস্বাভাবিক ক্ষমতা: মৃত্যু। সঙ্গে আছে দক্ষতা: মৃত্যুর এলাকা】
দক্ষতার প্রভাব: নিজের চারপাশের দশ মিটার এলাকা মৃত্যুভূমি। নিজের চেয়ে অর্ধেক শক্তির যেকোনো প্রাণী—সে চায় বা না চায়—অত্যন্ত যন্ত্রণায় পচে মারা যাবে (নিজের আহ্বানকৃত সত্ত্বা ছাড়া। স্তর বাড়লে প্রভাব বাড়বে)।
এখানেই বাই মু হতভম্ব হয়ে গেল।
"আমার কি... সারা জীবন একা থাকতে হবে? শুধু আহ্বানকৃত সত্ত্বাদের সঙ্গে?"
বাই মু চিন্তায় মগ্ন। এ সময় গাড়ি চলার শব্দ শুনতে পেল। সে জানালার দিকে তাকাল।
বাইরের দৃশ্য ধ্বংসস্তূপ। ঘরগুলো বেশ ভালো অবস্থায় আছে, নিচের অংশে কিছু মানুষের তৈরি ক্ষতি। রাস্তায় অনেক গাড়ি—একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা লেগে আগুন লেগে নিভে গেছে।
বাই মু রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো অনেক জম্বু দেখতে পেল। তাদের কেউ অক্ষত, কেউ অঙ্গহীন। তারা একটি জ্বলন্ত গাড়ির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বুঝলাম এটাই সেই চলমান গাড়ি। ভেতরের মানুষগুলো খাওয়া হবে।
আগে হলে বাই মু বমি করে ফেলত। কিন্তু শরীরের পরিবর্তনের কারণে এখন তার তেমন কিছু লাগছে না। তবে ভয় তো আছেই!
ভাবতে ভাবতে বুঝতে পারল—জম্বুগুলো কেন পচে যায়নি? আর ঘরগুলোও তত পুরনো মনে হচ্ছে না।
ভয়ের মধ্যেই তার মনে এক আশ্চর্য সিদ্ধান্ত এল!
"শুধু আমার এখানেই কয়েক বছর কেটে গেছে। অন্য জায়গায় সময় থেমে ছিল!"
এ কথা ভেবে সে সঙ্গে সঙ্গে বাইরে যেতে চাইল। কিন্তু থেমে গেল। ভাবল—
"এখন বাইরে গেলে ওই জঘন্য জম্বুদের কীভাবে সামলাব? আগে আহ্বান দেখি!"
বাই মু আগে কখনো জম্বু মারেনি। পোকামাকড়ও ভয় পেত!
সে নিজের ভেতরের শক্তি অনুভব করল। মনে মনে বলল—
"অসুরের আহ্বান!"
এক রক্তিম অদ্ভুত আহ্বান চিহ্ন তৈরি হলো। বাই মু যে ঘরে ছিল, সেখানে রক্তিম আলো আকাশ ছোঁয়ার মতো উঠল। আশপাশের কাগজপত্র আহ্বানের বাতাসে উড়তে লাগল।
কিছুক্ষণ পর আহ্বান শেষ হলো।
তার সামনে এক গাঢ় সবুজ রঙের মানবাকৃতি সত্ত্বা আবির্ভূত হলো।
---
যদি পরবর্তী অংশের অনুবাদের প্রয়োজন হয়, তবে জানাতে পারেন।