গ্রামবাসীদের দৃষ্টিতে সে ছিল এক নির্বোধ, নিজের ক্ষমতা সম্পর্কে অজ্ঞ এক বোকা। কিন্তু ভাই-বোনদের কাছে সে ছিল বড়ভাই, পাহাড়ের মতো অবিচল ও দৃঢ়। সহযোদ্ধাদের চোখে সে ছিল প্রজ্ঞার প্রতীক, বিজয়ের প্রধান ভরসা।
**পাহাড়গুলো ঘন তুষারে ঢাকা। একদল মানুষ যেন তুষারের মধ্যে চলা পোকার মতো ধীরে ধীরে সং জিয়াকুন গ্রামের দিকে এগিয়ে চলেছে।**
লোকদের দল সং জিয়াকুন গ্রামে প্রবেশ করার পর不久, সং মিস ফিরে এসেছেন এই খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়ল।
সং মিসের নাম সং জিয়াওয়েন। তিনি গ্রামের বড় জমিদার সং কাংনিয়ানের একমাত্র মেয়ে।
যদিও এখন চীন প্রজাতন্ত্রের যুগ, কিং রাজবংশের পতন হয়েছে বিশ বছরেরও বেশি, কিন্তু কিং আমলের 'নারীর শিক্ষাহীনতাই গুণ' এই ধারণা এখনও এই পৃথিবীকে গভীরভাবে প্রভাবিত করছে। এমনকি সাধারণ কৃষক পরিবারের মেয়েদেরও ছোটবেলা থেকে নানা নিয়মে বেঁধে রাখা হতো—ছোট থেকে পা বাঁধা, ধীরে মিষ্টি গলায় কথা বলা, পুরুষ দেখলে মাথা নিচু করে সরে যাওয়া ইত্যাদি।
বড় পরিবারের মেয়েদের তো কথাই নেই—বাড়ির বাইরে পা দেওয়া নিষিদ্ধ, আর কেউ বেশি দেখে ফেললে যেন বিরাট ক্ষতি হয়ে গেল।
সং পরিবার ছিল গ্রামের সবচেয়ে বড় জমিদার। গ্রামের ষাট শতাংশ জমি তাদের। গ্রামের অধিকাংশ পরিবারই তাদের চাষি। এই ছোট গ্রামের মানুষের কাছে তারা ছিল নিঃসন্দেহে বড় পরিবার। কিন্তু সং জিয়াওয়েন ছিলেন এই যুগের নারীদের মধ্যে এক ব্যতিক্রম।
হয়তো সং পরিবারের পূর্বপুরুষরা জোর করে জমি কেড়ে নেওয়ার মতো অনেক অন্যায় কাজ করেছিলেন বলেই এমন হয়েছিল—সং কাংনিয়ান আঠারো-উনিশ বছর বয়সে বিয়ে করেছিলেন, বেশ কয়েকজন উপপত্নীও এনেছিলেন, কিন্তু কোনো পুত্রসন্তান হয়নি। চল্লিশ বছর বয়সের কাছাকাছি এসে একমাত্র মেয়ে সং জিয়াওয়েনের জন্ম হয়। তিনি ছিলেন তার চোখের মণি, মুখে রাখলে গলে যাওয়ার ভয়, হাতে রাখলে উড়ে যাওয়ার ভয়।
অন্য পরিবারের মেয়েদের যত বিধিনিষেধ, সং জিয়াওয়েনের জন্য তা ছিল না। পা বাঁধাসহ মেয়েদের পালনীয় কোনো নিয়মই তিনি মানেননি। ছোটবেলা থেকেই গ্রামে উন্মত্তভাবে খেলতেন—গাছে উঠে পাখির বাসা ভাঙা,