পঞ্চান্নতম অধ্যায়: আমি কি আকর্ষণীয় নই? (অনুগ্রহ করে মাসিক ভোট দিন, সুপারিশ করুন, সংগ্রহে রাখুন)

আমার অর্থের সাম্রাজ্য হাসিমুখ বিশাল উড়োজাহাজ 2928শব্দ 2026-03-19 12:32:58

চেন হুই ঠোঁট কামড়ে হাসল, কীভাবে ব্যাখ্যা করবে বুঝে উঠতে পারছিল না। সে তো এখনও সিনিয়র দিদিকে পছন্দ করে, কিন্তু এখন মনে হচ্ছে এই কাজটা হয়ে দাঁড়িয়েছে এক বিশাল বিশাল বিশাল চ্যালেঞ্জ।
তার আত্মবিশ্বাস অনেকটাই কমে গেছে।
লিউ লিংলিং পাশ থেকে শুনে কিছুটা অস্বস্তি বোধ করল—‘তুমি সিনিয়র দিদি বলেই কি সব জানবে?’
লিউ লিংলিং তাকিয়ে দেখল লিউ সিয়া কতটা মিষ্টি ও আকর্ষণীয়, স্বীকার করতেই হলো, তাদের রূপ আর ব্যক্তিত্ব সমানতালে চলে, তবে ভিন্ন ভিন্ন ধাঁচে।
লিউ সিয়া আজকে পরেছে কোমর পর্যন্ত সাদা ছোট হাতার জামা, সাথে শরতের হলুদ রঙের ছোট স্কার্ট, চুলে পনি টেল, দেখতে দারুণ কিউট।
লিউ লিংলিংয়ের পরনে আজ কোরিয়ান স্টাইলের সাদা পোলো শার্ট আর জিন্সের অতিক্ষুদ্র শর্টস, তার পা দুটি ঝকঝকে ফর্সা আর লম্বা।
নিজেকে আর লিউ সিয়াকে তুলনা করে লিউ লিংলিং দেখল, লিউ সিয়া বেশ খাটো, পা-ও ছোট, চেহারা ভালো হলেও চেন হুইয়ের সবচেয়ে পছন্দ লম্বা পা—এটা সে জানে।
তার এই লম্বা পা-ই তো চেন হুইয়ের জল পড়ার মতো অবস্থা, প্রতিদিনই ছুঁয়ে দেখতে চায়।
নিজের লম্বা, ফর্সা পা দেখে সে মনে মনে হাসল, সামনের সিনিয়র দিদির তো ছোট ছোট পা।
কিছুই যায় আসে না।
তাই লিউ লিংলিং ভাবল, চেন হুই লিউ সিয়ার মতো মেয়েতে আগ্রহ দেখাবে না, মনটা নির্ভার হলো।
তাহলে তো চেন হুইয়ের সিনিয়র দিদি মানেই তারও সিনিয়র দিদি!
লিউ লিংলিং নিজেই হাত বাড়িয়ে কোমল স্বরে বলল, ‘‘সিনিয়র দিদি, আমি চেন হুইয়ের বান্ধবী লিউ লিংলিং।’’
হান তাও পাশে দাঁড়িয়ে রীতিমতো অবাক হয়ে গেল, এখনকার জুনিয়র দিদিরা এতটা উদার!
সে কি জানে না, চেন হুই সুন্দর কাউকে দেখলেই পছন্দ করে?
দেখা যাচ্ছে, চেন ভাইয়ের স্ত্রী সামলানোর কৌশল অনেক উচ্চ পর্যায়ে।
একদিন তারও শেখা দরকার, যাতে লি ইউয়ানইয়ানও এমন বাধ্য থাকে।
চেন হুইর তখন মনে হচ্ছিল, যেন আট দিন আগে রাখা পচা খাবার খাচ্ছে—কষ্ট হলেও মুখ ফুটে কিছু বলতে পারছিল না, ভাগ্যের হাতে সব ছেড়ে দিল।
লিউ সিয়ার মুখে অস্বস্তি, জোর করে হাসল, ‘‘জুনিয়র দিদি, চেন হুই কখন তোমার সঙ্গে?’’
লিউ লিংলিং গা করেনি, বলল, ‘‘গত সপ্তাহেই বোধহয়।’’
লিউ সিয়া আর কিছু বলল না, শুধু ঠাণ্ডা চোখে চেন হুইকে একবার দেখে সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলল, ‘‘জুনিয়র ভাই-বোনেরা, মনে হচ্ছে দুপুরে আমার ক্লাস আছে, আমি উঠলাম।’’
কোনো কথা না বলে রাগে ফুঁসে ঘুরে চলে গেল।
চলে যেতে যেতে মনে মনে ভাবছিল, এই জুনিয়র ভাই কত খারাপ, তার তো বান্ধবী আছে, তবুও উইচ্যাটে আমাকে খোশামোদ করে!
উপহার দেবে বলে, সেই ফ্রি গিফট যে একটা অজুহাত, আসলে সে আমাকেই পটাতে চায়!
ছিঃ, বাজে ছেলে!
লিউ সিয়া ঠিক করল, আর কখনো চেন হুইর সঙ্গে কথা বলবে না—ও একটা বাজে ছেলে!
লিউ লিংলিং কিছুটা হতভম্ব, এত ভালো ভালো কথা বলে আচমকা চলে গেল কেন?
হান তাও ওরা সবাই অদ্ভুতভাবে হাসছিল, চেন হুইর খুব মন খারাপ হলো।
চা এগিয়ে দিয়ে বলল, ‘‘হান তাও, তোমাদের কি একটু পর ক্লাস নেই?’’
লি ইউয়ানইয়ান কিছু বলতে যাচ্ছিল, হান তাও আগে বলে উঠল, ‘‘আছে, আছে, তাহলে আমরা উঠি। রাতে আবার আসব, ভাই, ভাবি, বাই!’’

হান তাও লি ইউয়ানইয়ানের হাত ধরে চলে গেল, অন্যরাও চেন হুইকে বিদায় জানিয়ে চলে গেল।
লিউ লিংলিং এখনও বুঝে ওঠার আগেই চেন হুইকে দ্রুত মনোযোগ ঘুরিয়ে নিতে হবে।
একজনকে তো হারালাম, আরেকজনকে হারানো চলবে না!
চেন হুই লিউ লিংলিংয়ের কাঁধ টিপে নরম স্বরে বলল, ‘‘জুনিয়র দিদি, ক্লান্ত তো? চল, তোমায় কিছু ভালো খেতে নিয়ে যাই।’’
লিউ লিংলিং কাঁধ নাড়ল, সত্যিই একটু ক্লান্ত, কিন্তু দোকানের কর্মীরা এখনও ব্যস্ত, তাদের ফেলে যেতে সংকোচ। বলল, ‘‘তাহলে আমরা তাড়াতাড়ি খেয়ে ওদের জন্যও খাবার নিয়ে ফিরব।’’
চেন হুই লিউ লিংলিংকে নিয়ে কাছের এক রেস্তোরাঁয় গ্রিলড ফিশ খেল, মোটামুটি ভালোই, আবার কর্মীদের জন্যও কিছু খাবার প্যাক করিয়ে নিল।
দোকানে ফিরে, চেন হুই বলল, ‘‘জুনিয়র দিদি, তুমি এখানে দোকানটা একটু দেখো, আমি ওপরের দোকানে খাবার দিয়ে আসি, দেখি কিছু সাহায্য করতে পারি কি না।’’
লিউ লিংলিং সন্দেহ না করে মাথা নাড়ল।
চেন হুই খাবার নিয়ে তাড়াতাড়ি ওপরে গেল।
শিক্ষালিন রোডের এই দোকানটা পশ্চিম ন্যায় রোডের মতো বড় নয়, সামনেও কোনো স্কোয়ার নেই, পশ্চিম ন্যায় রোডের দোকানের মতো বাইরে চার-পাঁচটা টেবিল বসানো যায় না।
তাই, ভিড় জমে আছে দোকানের সামনেই, হাতে চা পেয়ে মুখে হাসি ফুটে উঠছে।
এত লোকের ভিড়ের মাঝখান থেকে চা কিনে নেওয়াটা সহজ নয়।
চেন হুইর মন খুশি, যদিও মুখে বলে সে কাজটাকে গুরুত্ব দেয় না…
কিন্তু এটাই তার দুই জন্মের মধ্যে করা প্রথম সৎ কাজ, টাকার উৎস যেমন-তেমন হোক, দোকানটা তো সৎভাবেই চলছে।
চেন হুই প্রাণপণে ভিড় ঠেলে দোকানে ঢুকল, খাবারটা ব্যস্ত ম্যানেজারের হাতে দিল।
ম্যানেজার কিছু বলতে চাইলেও পারল না, চেন হুই দেখেই বুঝে গেল, ও চায় সে থেকে সাহায্য করুক।
কী মজা! এত কষ্টে লিউ লিংলিংয়ের পাশ থেকে বেরিয়েছি, এখানে সময় নষ্ট করব?
সিনিয়র দিদিকে কি আর চাইব না?
চেন হুই আবার প্রাণপণে বেরিয়ে এল, ঢোকা-বেরোনো—দুটোই দারুণ কষ্টকর!
ঘাম ঝরে পড়ছে, আর একটু…
তাড়াতাড়ি সিনিয়র দিদিকে মেসেজ পাঠাল, দোকান থেকেই এক কাপ চা নিয়ে নিল, অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করবে।
চেন হুই লিখল: ‘‘সিনিয়র দিদি, তুমি কোথায়?’’
দুই-তিন মিনিট অপেক্ষা, কোনো উত্তর নেই।
আবার লিখল: ‘‘সুন্দরী সিনিয়র দিদি, তোমায় চা খাওয়াতে চাই!’’

তবুও কোনো উত্তর নেই, এবার সরাসরি ফোন করল, অনেকক্ষণ পর ফোন ধরল।
ফোনের ওপাশে সিনিয়র দিদির কোমল কণ্ঠ: ‘‘চেন হুই, কী ব্যাপার, আমার একটু পর ক্লাস আছে! কাজ থাকলে বলো!’’
চেন হুই বলল, ‘‘সিনিয়র দিদি, তুমি কোথায়? তোমার জন্য চা নিয়ে এলাম!’’
লিউ সিয়া বলল, ‘‘লাগবে না, চেন হুই, তুমি নিজেই খেয়ে নাও।’’
‘‘ও, তাহলে তুমি কি আর বাকি টাকার কথা ভাবছ না? ঠিক আছে, তাহলে রাখি…’’

‘‘থামো, আমি রুমেই আছি, রুমের সামনে দিয়ে যাও।’ লিউ সিয়া জানত, চেন হুই মজা করছে, কিন্তু টাকা তো এখনও ২০০০ বাকি, ওরাই দেবে।
সে নিজে দিতে চাইছে না, কষ্ট হবে তো!

‘‘সিনিয়র দিদি, নিচে এসো’’, চেন হুই ফোন দিল।
লিউ সিয়া ছোট ছোট পা ফেলে দৌড়ে এল, সামনে এসে বলল, ‘‘চেন হুই, তাড়াতাড়ি টাকা দাও।’’
চেন হুই হাসল, ‘‘আগে চা খাও। খেয়ে শেষ করো, তারপর দেব!’’
লিউ সিয়া চা নিল, গলাধঃকরণ করে মুহূর্তেই শেষ করল, চেন হুই অবাক।
সে জানত না, লিউ সিয়া এতটা খেতে পারে।
চেন হুইর মুখ দেখে লিউ সিয়া একটু লজ্জা পেল, আসলে তাড়াহুড়োয় নিজেকে ধরে রাখতে পারেনি।
মাথা নিচু করে বলল, ‘‘এখন তো খেয়ে নিলাম, এবার দিতে পারো তো?’’
চেন হুই ধীরস্থিরভাবে বলল, ‘‘সিনিয়র দিদি, আমার জন্মদিনে তুমি আসবে তো?’’
‘‘আমি যাব না।’’
‘‘কেন?’’
‘‘তোমার তো বান্ধবী আছে, আমি গেলে অস্বস্তি লাগবে, সাবধানে থাকা উচিত।’’
‘‘সিনিয়র দিদি, তুমি কি সত্যিই ভেবেছো, ও আমার বান্ধবী?’’ চেন হুই অবাক।
‘‘অন্যথা কেন? ও তো নিজেই বলেছে!’’ লিউ সিয়া মুখ ফুলিয়ে বলল।
‘‘উফ!’’ চেন হুই ভ্রু কুঁচকে ব্যাখ্যা করল, ‘‘তুমি কী ভাবছো? ও তো আমার জুনিয়র দিদি, আমায় পছন্দ করে, আমি রাজি হইনি, আজ জোর করে ধরে এনেছে এখানে।’
‘‘তাহলে… ও কেন বলল, ও তোমার বান্ধবী, আর…তুমি কেন কিছু বললে না?’’ লিউ সিয়ার গলা ভারী।
চেন হুই ব্যাখ্যা করল, ‘‘ও খুব মজা করতে ভালোবাসে, তুমি দেখনি, আমি আর আমার রুমমেটরা কিছু বলতে যাচ্ছিলাম, তুমি তখনই চলে গেলে?’’
লিউ সিয়া মাথা তুলে ভাবল। সত্যিই, ও নিজেই তো তাড়াতাড়ি চলে গিয়েছে।
লিউ সিয়ার কুঁচকে থাকা ভ্রু খুলে গেল, কোমল গলায় বলল, ‘‘তাহলে তোমার জুনিয়র দিদিকে তুমি প্রত্যাখ্যান করো না কেন?’’
চেন হুই অসহায়ভাবে বলল, ‘‘প্রত্যাখ্যান করেছি তো, তুমি জানোই, মেয়েরা একবার জেদ ধরে বসলে সামলানো কঠিন।
‘‘বেশ কয়েকবার বলেছি, ও শোনে না, আমি কি গালিগালাজ করব? জুনিয়র দিদিকে গালিগালাজ করলে কেঁদে দিলে কী হবে?’’
চেন হুই হেসে বলল, ‘‘সিনিয়র দিদি, তুমি এত তাড়াতাড়ি চলে গেলে, হিংসে করছিলে বুঝি?’’
‘‘তাও তো, তোমার ভাই তো দিনে দিনে সুদর্শন হচ্ছে, ওই জুনিয়র দিদিও পিছু ছাড়ছে না, তুমি আমায় পছন্দ করলেই তো স্বাভাবিক।’’
লিউ সিয়া মুখ ফিরিয়ে বলল, ‘‘কই…না, আসলে তোমার বান্ধবী আছে বলেই আমি মনে করি ছেলেমেয়েদের দূরত্ব রাখা উচিত, না হলে তোমার বান্ধবী হিংসে করবে, তাই…আমি চলে গিয়েছিলাম।
‘‘আর, তুমি মোটেই সুদর্শন নও, ছিঃ!’’ ব্যাখ্যা শেষেই আবার একটু ঝাড়ল।
চেন হুই অবিশ্বাসে বলল, ‘‘সিনিয়র দিদি, তুমি এভাবে বললে তো আমি খুব কষ্ট পাব!’’